বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ৩৮ নদ-নদী মরণদশায়

ময়মনসিংহ: জলবায়ু পরিবর্তন আর পলি জমে মরতে বসেছে ময়মনসিংহের ৩৮টি নদ-নদী। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় ‘মৃতনদী’ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে নরসুন্দা ও রাজবাড়ী নদী। এসব নদীতে এখন শুধুই ধূ-ধূ বালুচর। ফলে এলাকার কৃষি সংস্কৃতিতেও নেমে এসেছে রুগ্নদশা। ¯’ানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র মতে, ময়মনসিংহে ৩৮টি নদ-নদী রয়েছে। এগুলো হলো, ঝিনাই, আইমন, সুতিয়া, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঘরোটা নদী, সিমাহালী, নরসুন্দা, বোথাই, নিতারী, সোমেশ্বরী, কংশ, গুনাই, কাঁচামাটিয়া, পানকুরা, সাইদুল, মুগরা, রাংরা, খারমরি, মাহাডেবা, জাদুকাটা, ধানু, বাউলাই, শিরখালি, চেলাখালি, মতিচিক, চালহি, বংশাই, মানস, পুটিয়া, জিনজিরাম, সুবনফিরি, বলেশ্বর, বগাই কংশ, কাউলাই, ধনু, সিলাই, রাজবাড়ী ও খারমেনি। এর মধ্যে নরসুন্দা ও রাজবাড়ী’কে মৃত নদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে ¯’ানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাংলা পিডিয়াতেও এসব নদীর কথা বলা হয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, যৌবনের জলতরঙ্গে এক সময় উ”ছ্বল ছিল এসব নদী। সেই কারণে নদীর সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের গভীর মিতালীও পুরনো। কিš‘সময়ের স্রোতে নদীমাতৃক পরিচয়টাও যেন এখন বিলীন হবার পথে। এসব নদী মরে যেতে বসায় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাও বদলে যা”েছ। সৃষ্টি হ”েছ পরিবেশ বিপর্যয়। এ অঞ্চলের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রও খননের অভাবে এখন মরা খাল। বছরের পর বছর পলি জমি ব্রহ্মপুত্রের এ বেহাল অব¯’া হওয়ায় অন্য নদীগুলোও সঙ্কটাপন্ন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আরো জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পানির বদলে এসব নদীর বুকে চর পড়ে দেখা যায়, শুধুই বালু আর বালু। কোথাও কোথাও ছোট-বড় নদীর বুকে চলে চাষাবাদ। নদীর তলদেশ শুকিয়ে হয়ে ওঠে মরুভূমি। ব্রহ্মপুত্রের বর্তমান অব¯’া বর্ণনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সার্কেল ময়মনসিংহ কার্যালয়ের মারফোলজি উপ-বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, ‘পুররনো ব্রহ্মপুত্রের অব¯’া খুবই নাজুক। নদের উৎসমুখ ভরাট হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য ডুবো চর। তলদেশের উ”চতা বেড়ে ১৯ ফুটে গিয়ে ঠেকেছে’। সূত্র মতে, সংকটাপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘ব্রহ্মপুত্র বহুমূখী নদীশাসন প্রকল্প’ নিলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পটি টানা ১২ বছর ধরে ফাইলবন্দী। থমকে থাকা প্রকল্পটিতে বাহাদুরাবাদ-ভৈরব পর্যন্ত পুরনো ব্রহ্মপুত্রের ভরাট হয়ে যাওয়া অংশগুলো খনন করে সেই মাটি দিয়ে নদের দুই পাড়ে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে সূত্রটি জানায়।

কমেন্ট করুন
ফটোগ্যালারি